নিউজ ডেস্ক :
বঙ্গোপসাগরীয় দেশগুলোর আঞ্চলিক সহযোগিতা জোট বিমসটেকে তৃতীয়বারের মত সভাপতির দায়িত্ব পাচ্ছে বাংলাদেশ।
ব্যাংককে চলমান জোটের ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলনের শেষে বর্তমান সভাপতি থাইল্যান্ডের সরকারপ্রধান আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ সরকার প্রধানের হাতে দায়িত্ব তুলে দেবেন বলে বাসস জানিয়েছে।
এর মাধ্যমে আগামী দুই বছর দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আঞ্চলিক সংযোগ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়নে কাজ করবে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড বিমসটেকের সদস্য। দেশগুলোর নামের বর্ণ অনুযায়ী ধারাবাহিকভাবে দুই বছর পর পর সভাপতির দায়িত্বে পরিবর্তন আসে। এর আগে দুই মেয়াদে আঞ্চলিক এ জোটের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ বিমসটেকের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ছিল। ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠার পরবর্তী দুই বছর ওই দায়িত্ব পালন করে। এরপর ২০০৫-২০০৬ মেয়াদেও সভাপতি হয় বাংলাদেশ। জোটের সভাপতির দায়িত্ব পালন করা দেশ শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনের মাধ্যমে পরবর্তী সভাপতির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করে থাকে।
ব্যাংককে ‘সমৃদ্ধ, স্থিতিস্থাপক এবং উন্মুক্ত বিমসটেক’ থিমে আয়োজিত শীর্ষ সম্মেলনে জোটের নেতারা গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনায় মিলিত হয়েছেন। এ সম্মেলনের শেষে থাইল্যান্ডের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সভাপতিত্বের দায়িত্ব নেবে বাংলাদেশ।
বাসস জানিয়েছে, দায়িত্ব হস্তান্তরের অনুষ্ঠানে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সমাপনী বক্তব্য দেবেন। সম্মেলনে অংশ নেওয়া প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ব্লকটির জন্য বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরবেন।
শুক্রবার সম্মেলন শুরুর পর থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতাংতার্ন সিনাওয়াত্রা স্বাগত ভাষণ দেন। এসময় মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডে সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
এরপর প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ও অন্যান্য বিমসটেক নেতারা আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়ে তাদের দেশের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।
সকালে প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস থাইল্যান্ডের শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে বিমসটেক কাঠামোর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক এবং বহুপাক্ষিক অংশীদারিত্ব জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।
১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত বিমসটেক আঞ্চলিক সহযোগিতার জন্য বিশেষ করে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, পরিবহন, জ্বালানি ও সন্ত্রাসবাদ দমনের ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমানভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
ঢাকার বিআইএমএসআরইসি সচিবালয় সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বাসসকে বলেন, আগামী দুই বছরের জন্য বাংলাদেশ নেতৃত্বের দায়িত্বে থাকায় সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য সুবিধা, অবকাঠামোগত সংযোগ এবং জলবায়ু সহিষ্ণুতা বৃদ্ধির ওপর মনোনিবেশ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, নতুন বিমসটেক সভাপতি সংগঠনের কর্মযজ্ঞ পরিচালনায় কাজ শুরু করবে, যাতে আঞ্চলিক ব্লকটির বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা বৃদ্ধিতে কৌশলগত ভূমিকা পালনের বিষয়টি নিশ্চিত করা যায়।
শুক্রবার ব্যাংককে সম্মেলনের ফাঁকে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতাংতার্ন সিনাওয়াত্রা, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগের সঙ্গে বৈঠক করেন।
Leave a Reply